সেন্টমার্টিন ভ্রমণ গাইড

সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ গাইড A টু Z – nicvel.com

বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর দ্বীপ হলো সেন্টমার্টিন দ্বীপ।এই দ্বীপটি বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্বাংশে অবস্থিত। এই দ্বীপটি প্রবাল দিয়ে ঘেরা,বলা যায় এটি একটা প্রবাল দ্বীপ। কক্সবাজারের সমুদ্র বালুময়, সেন্টমার্টিন দ্বীপ প্রবাল এবং নীল পানি দিয়ে ভরা। অনেকে কক্সবাজারের সমুদ্রের অস্বচ্ছ পানি দেখে নীল পানির খুজে  সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ করতে আসে, এই দ্বীপে আরও বড় আকর্ষণ হলো এটি বাংলাদেশর সবর্শেষ ভূমি। অনেক পর্যটক  আসে প্রবালে বসে সমুদ্রের ছবি তুলতে, এই প্রবাল আমরা ইনানী বীচে ও দেখতে পাই। ইনানী বীচের পুরো ভ্রমণ গাইড দেখুন কি করে ইনানী ভ্রমণ করবেন

সেন্টমার্টিন দ্বীপের ইতিহাস?

সেন্টমার্টিন দ্বীপ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মায়ানমারের উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় এর অবস্থান। এটি টেকনাফ এর  ইউনিয়ন এর আওতায়, প্রায় অনেক বছর আগে এই দ্বীপটি সাগরে তলে ডুবে যায়, ডুবে যাওয়ার প্রায় ৪০০ বছর পর এই দ্বীপের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। প্রায় ২৫০ বছর আগে এই দ্বীপটি আরবের কিছু নাবিক বিশ্রামের জন্য ব্যবাহার করতো, এইখান থেকে এই দ্বীপের উৎপত্তি। আরবরা

এই দ্বীপের নামকরণ করে জিঞ্জিরা, জিঞ্জিরা একটা আরবি শব্দ এই অর্থ হলো দ্বীপ। ১৭ দশকে আরবরা চট্টগ্রাম শহরে ব্যবসা বাণিজ্য করতো ২৫০ বছর আগে, চট্টগ্রাম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যাতায়াতের সময় এই দ্বীপটিতে বিশ্রামের জন্য ব্যবহার করতো।এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ।  কালক্রমে এই দ্বীপের নাম পরিবর্তন হয়, এই দ্বীপটিকে জিঞ্জিরা নামে ও চিনে মানুষ। কালক্রমে এই দ্বীপটি বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় পরিণত হয়।

এই দ্বীপে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের আগে থেকে মানুষ বসাবাস শুরু করেছে,  প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ বছর আগে থেকে এখানে লোকের বসতি । বর্তমানে  এই দ্বীপ দেখতে হাজার হাজার পর্যটক এখানে ভীড় করে।  ১৯০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে ব্রিটিশ ভূ-জরীপ দল এই দ্বীপকে ব্রিটিশ-ভারতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। কক্সবাজারের নাম এবং সেন্টমার্টিন এর নাম ব্রিটিশদের দেওয়া। সেন্টমার্টিন এর নামকরণ খ্রিষ্টান সাধু মার্টিনের নামানুসারে সেন্ট মার্টিন নাম দেওয়া হয়।

১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে কিছু বাঙালি এবং রাখাইন সম্প্রদায়ের মানুষ এই দ্বীপের বসতি শুরু করে। এই দ্বীপের বসতি শুরু করেছিলো মাত্র ১৩ টি পরিবার নিয়ে,  বর্তমান সময়ে এখানে ৭ হাজার মানুষের বসতি। বাঙালি আর কিছু রাখাইন এই দ্বীপের বসাবাস শুরু করে।  এই দ্বীপে কক্সবাজারের মতো ঝাউগাছ ছিলো। এখানকার বাসীরা মনের ক্লান্তি দূর করার জন্য প্রচুর পরিমাণ নারকেল গাছ এই দ্বীপে রোপণ করেছিল।

কালক্রমে পুরো দ্বীপটি একসময় ‘নারকেল গাছ প্রধান’ দ্বীপে পরিণত হয়। বর্তমান সময়ে এই দ্বীপে ১ লক্ষের মতো নারিকেল গাছ আছে। এই দ্বীপের উত্তরাংশকে নারিকেল জিঞ্জিরা নামে ও পরিচিত।এই দ্বীপের মানুষ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এটি একটা পর্যটক নগরীতে পরিণত হয়েছে। এই দ্বীপে ঘুরতে গেলে অবশ্যই তাজা মাছের বারবিকিউ করে খেতে ভুলবেন না।

কিভাবে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়?

সেন্টমার্টিন যেতে হলে আপনাকে প্রথমে কক্সবাজার আসতে হবে, এই  দ্বীপটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ হতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং মায়ানমার-এর উপকূল হতে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে নাফ নদীর মোহনায় অবস্থিত। বাসে করে ঢাকা থেকে সরাসরি টেকনাফ এর উদ্দেশ্য রওনা দেওয়া যায়। আপনি সরাসরি কক্সবাজার আসতে পারেন অথবা ঢাকা থেকে টেকনাফ আসতে পারেন, ঢাকা থেকে টেকনাফ আসতে আপনার ১০-১২ ঘন্টা সময় লাগতে পারে। ঢাকা থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন পরিবহন কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের ইতিহাস

আপনারা চাইলে সরাসরি ঢাকা টু কক্সবাজার যেতে পারেন, অথবা ঢাকা টু টেকনাফ যেতে পারেন, সবচেয়ে ভালো হয় কক্সবাজার গিয়ে একদিন থাকলে আপনার ভ্রমণ টা আরো ভালো মতো উপভোগ করতে পারবেন, আপনার লং জার্নি টা একটু আরামের হবে। কক্সবাজার থেকে লোকাল বাস, মাইক্রো বা জিপ ভাড়া করে টেকনাফ যাওয়া যায়, তার পর টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যেতে হবে । কক্সবাজার থেকে টেকনাফ যেতে সময় লাগে অবস্থাভেদে প্রায় ১ থেকে ২ ঘণ্টা।তার পরে জাহাজে করে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন যেতে সময় লাগে ২ ঘণ্টা থেকে আড়াই ঘণ্টা।কক্সবাজার বীচের পুরো ভ্রমণ গাইড দেখুন

টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিনে প্রতিদিন সকাল থেকে আসা-যাওয়া করে কুতুবদিয়া, কেয়ারী সিন্দাবাদ, ঈগল, সুন্দরবন ও গ্রীনলাইন ইত্যাদি জাহাজ। এ ছাড়াও এ সমুদ্র রুটে বেশ কিছু ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল করে।এই জাহাজ গুলো সকাল ৯.০০ টা থেকে ৯.৩০ এর সময় সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয় এই জাহাজ, আপনার যদি জাহাজে করে যেতে হলে সকাল ৯ টার মধ্যে টেকনাফ উপস্থিত হতে হবে।

জাহাজের টিকেট গুলো আপ-ডাউন হয়, যে টিকেট যাবেন সে টিকেট ফিরে আসবেন।জাহাজ গুলো সেন্টমার্টিন থেকে ফেরত আসে বিকেল ৩টা-সাড়ে ৩টার দিকে। আপনারা নিদিষ্ট সময়ে ঘাটে উপস্থিত হতে না পারলে জাহাজ মিস করবেন,  চেষ্টা করবেন সঠিক সময়ের মধ্যে ঘাটে উপস্থিত হতে, যদি জাহাজ মিস করলে সমস্যা নেই, ট্রলার করে, লোকাল বোট নিয়ে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। সেন্টমার্টিন অবশ্যই ২ দিন থাকতে চেষ্টা করুন, ২ দিন থাকলো সবচেয়ে ভালো হয়, পুরো দ্বীপটি ঘুরা যায়। জাহাজের শ্রেণিভেদে আপ-ডাউন এর ভাড়া ৫৫০-৮০০ টাকার মতো হয়ে থাকে। তবে শীতকালে সিজন এর সময় এই ভাড়াটা একটু বেশি হতে পারে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের দর্শনীয় স্থান?

সেন্টমার্টিন দ্বীপটি বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র।  পর্যটন মৌসুমে এখানে প্রতিদিন ৫টি লঞ্চ চলা চল করে থাকে। এই দ্বীপে প্রচুর নারিকেল পাওয়া যায়। সেন্ট মার্টিনে ২ দিনের জন্য ট্যাুর পরিকল্পনা করা সবচেয়ে ভালো হয়।দিনে গিয়ে দিনে আসলে ভ্রমণের কোন স্বাধ পাওয়া যায় না, ভালো মতো উপভোগ করতে পারবেন এই দ্বীপটি। ১টা দিন সেন্টমার্টিন এর জন্য আরেকটা দিন ছেড়া দ্বীপের জন্য বরাদ্দ রাখা ভালো।  

সেন্টমার্টিনঃ এই দ্বীপের পানি অনেক সুন্দর। এই দ্বীপের পানি নীল পানি হয়ে থাকে। এই নীল পানি দেখতে হাজার হাজার পর্যটক এখানে এসে থাকে। আপনারা সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আসলে ১ দিন সেন্টমার্টিন ভ্রমণের জন্য বরাদ্দ রাখবেন আরেক দিন সেন্টমার্টিনের আরেক দ্বীপ ছেড়া দ্বীপের জন্য বরাদ্দ রাখা ভালো।  সেন্টমার্টিনের স্বচ্ছ সমুদ্রের নিচে দেখা মিলবে বিচিত্র সব জীবন্ত কোরাল এবং বহুবর্ণের জলজ উদ্ভিদের।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের  আসল মজা একরাত না থাকলে উপভোগ করা সম্ভব নয়। আরো ভাল হয় দুইরাত থাকলে। সেক্ষেত্রে ১টা দিন ছেড়া দ্বীপের (Chera Dwip) জন্য, আরেকটা দিন সেন্টমার্টিনের জন্য  রাখা যেতে পারে ভালো মতো এই দ্বীপকে উপভোগ করতে ২ দিন থাকলে। যারা একদিনের ভ্রমণের পরিকল্পনা  করে, তাদেরকে বিকেলের মধ্যে ফিরে যেতে হয়। বিকেলের সাগর স্থল জায়গা ঘুরে বেরানোর মজাই আলাদা। আর যদি ভরা পূর্ণিমায়, যেতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই, রাতের বেলা সেন্ট মার্টিন’স দ্বীপে ঘুরে বাড়াবেন আর বাঁচার ইচ্ছেটা বাড়িয়ে দেয়।

পূর্ণিমার আকাশে সমুদ্র দেখার উপভোগ করা কতই না আনন্দে যা না দেখলে বুঝা যায় না। মানুষের মুখে মুখে একটা প্রচলিত কথা শুনা যায় অনেক বছর আগে প্রতিকুল আবহাওয়ার মধ্যে এখানে দারুচিনি বোঝাই আরবের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ পানির নীচে থাকা একটি বিশাল পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ভেঙ্গে পড়ে, যার ফলে জাহাজে থাকা দারুচিনি এই দ্বীপের সবখানে ছড়িয়ে যায় এবং পরবর্তীতে সেন্ট মার্টিন’স দ্বীপের নাম হয়ে যায় ‘দারুচিনির দ্বীপ’। এখানে হুমায়ুন আহমেদের লেখা ও তৌকির আহমেদের পরিচালনায় দারুচিনির দ্বীপ (Daruchini Dwip) মুভির স্যুটিং হয়েছিল। এই মুভিটি কারণে সেন্টমার্টিন অনেক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে পর্যটকদের মাঝে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ হোটেল ভাড়া?

সাধারণত শীতকাল কে আমরা সিজন হিসেবে বিবেচনা করে থাকি। সেন্টমার্টিন শীতকালে জাহাজ এর চলাচল করে থাকে, এককালিন সিজন হওয়ায় এখানে তেমন হোটেল এর ব্যবস্থা নেই, কক্সবাজার যেমন হোটেল আছে তেমন হোটেল সেন্টমার্টিনে নেই। সেন্টমার্টিনে থাকার জন্য বেশ কয়েকটি উন্নতমানের হোটেল ও কটেজ রয়েছে। তবে অবশ্যই আগে থেকে বুকিং দিয়ে যেতে হবে। আমরা কিছুদিনের মধ্যে সব হোটেল এর রিভিউ এবং লিস্টিং করে নিবো আমাদের ওয়েবসাইট, আমাদের ওয়েবসাইট থেকেও আপনারা তাদের সাথে বুকিং দিয়ে যতে পারবেন।আপাতত আমরা কোন হোটেলের লিস্টিং করতেছি না, তাই কোন হোটেল এবং রেস্টুরেন্টে এর তথ্য শেয়ার করতে ছি না, অতিশিগরই আমরা হাজির হবো।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ হোটেল ভাড়া

আপনাদের কোন মতামত থাকলে কমেন্ট করে জানান। আপনরা কোন হোটেলে বা রেস্টুরেন্টে নিয়ে রিভিউ বা আরও তথ্য সহকারে জানতে চাইলে কমেন্ট করে জানান।আমরা অতিশিগরই নিয়ে আসবো।

1 thought on “সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণ গাইড A টু Z – nicvel.com”

  1. Pingback: ২০২৩ সালে নতুনদের জন্য ব্লগিং শুরু করার গাইড – NicVel -

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top