কীভাবে নিজের উন্নতি করবেন

সফলতাঃ কীভাবে নিজের উন্নতি করবেন- Nicvel.com

নিজেই নিজেকে উন্নত করা একটি শিল্প। সবাই সেটা পারে না।অভ্যাসই মানুষের মূল চরিত্র। অভ্যাস বদলে গেলেই মানুষও বদলে যায় মানুষের জীবন ধারায় অনেক পরিবর্তন আসে।কিভাবে নিজের উন্নতি করবেন, হয়তো আপনি ভালো নয়তো খারাপ কিংবা আপনার মধ্যে এমন কিছু অভ্যাস আছে তা চিরতরে পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন। মানুষ পরিবর্তন হয় , নানান সময়ে নানান কারনে মানুষের অনেক পরিবর্তন আসে আর যায়। খুব নেশাগ্রস্ত থাকা মানুষটি একদিন পালটে যায় হুট করে তার জীবনের মোড নিয়ে আসে।

যখন মানুষ পরিবর্তন হয় অন্ধকার জগৎকে চিরকালের জন্য বিদায় জানায়। মানুষ জীবন অতিই ছোট এই ছোট জীবনে অনেক কিছু ঘটে যায় যা মানুষ কোন দিনের জন্য রেডি থাকে না।আজকে আমরা জানবো কি করে নিজেকে পরিবর্তন করা যায়।

একজন টপার সবসময় চেষ্টা করে সময়ের সাথে চলতে সোজা কথায় সময়কে মূল্য দিতে জানে। একজন টপার এই বিষয়টির গুরুত্ব বোঝে।

একজন টপার দৈনন্দিন কাজ করার জন্য ডেইলি রুটিন ফলো করে।একই কাজ বার বার করতে থাকে এভাবে তাদের জীবনে সৃষ্টি হয় । ফলে তারা অধিক সফলতা দিকে তাড়াতাড়ি ছুটতে থাকে পড়ালেখায় কিংবা কাজের ক্ষেত্রে সাফল্য আসে সহজ স্বতঃস্ফূর্ততায়। কিছু পেতে হলে কিছু ত্যাগ করতে হয় এটা আমরা সবাই জানি তবে আমরা বড় কিছু পাওয়ার জন্য ছোট ছোট জিনিস ত্যাগ করতে রাজি হয়না।

১। একজন টপারের একটা নিদিষ্ট জায়গায় ফোকাস থাকে এবং আপনার নিদিষ্ট কোন কাজের প্রতি ফোকাস থাকে না।

২। একজন টপার তার লক্ষ্য সম্পর্কে অবগত এবং আপনার কোন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই ।

৩। একজন টপার স্থির থাকে এবং আপনি স্থির থাকতে পারেন না।

৪। একজন টপার কখনও তার সময় নষ্ট করে না এবং আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় কিংবা খেলাধুলা নিয়ে অধিক সময় নষ্ট করেন।

৫। একজন টপার নিজেকে অনুপ্রেরণা করতে মোটিভেশান বই পড়ে থাকে আপনি নিজেকে অনুপ্রেরণা করতে ইউটিউবে মোটিভেশান ভিডিও দেখে থাকেন।

৬। একজন টপার সমস্যার সমাধান খুঁজতে থাকে আর আপনি এটা আমার দ্বারা হবে না বলে সে সমস্যা কে সমাধান করেন না।আমার দ্বারা হবে না এটাকে বর্জন করতে শিখুন।

৭। একজন টপারে সাফল্যের পেছনে রহস্য হচ্ছে তাদের প্রো-একটিভ দৃষ্টিভঙ্গি।

৮। একজন টপার ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। আপনি ব্যর্থতাকে নিজের দূবলতা মনে করেন এটাকে বাস্তবতা মেনে আর এগোতে চান না।

কিভাবে নিজেকে পরিবর্তন করবেন

 

৯। একজন টপার কোন কিছু করতে ঝুঁকি নিতে চাই আপনি ঝুঁকি নিতে চান না। একজন টপার সমাজের লোকের কথায় কান দেয় না আর আপনি লোকে কি বলবে কি ভাববে এটা নিয়ে মনোবল থাকেন।

১০। একজন টপার ভিন্ন ধরনের কাজ করে না একটা কাজ কে ভিন্ন ভাবে করতে চেষ্টা করে।

১১। টপাররা কঠোর পরিশ্রম বিশ্বাসী আর আপনি ভাগ্যা উপর বসে থাকেন ভাগ্যা যা আসে তা হবে। এটা ভুল ধারণা নিজের পরিশ্রম নিজের থেকে করতে হবে। নিজেকে পরিবর্তন করার সঠিক উপায় গুলো কী?

নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন আপনার লক্ষ্য কী?

জীবনে যা-ই পেতে চাই না কেন আমরা আমাদের মাঝে যদি লক্ষ্য না থাকে তাহলে আমরা কোন দিন সফল হতে পারবো না। সফলতা পেতে হলে লক্ষ্য ঠিক করে তার জন্য পরিশ্রম করতে হবে অনেক। শুধু বেঁচে থাকাই মানুষের জীবনের সার্থকতা নয়, সার্থকতা লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার অর্থপূর্ণ কারণ খুঁজে পাওয়ার মাঝে।

কি কারণে মানুষ আপনাকে মনে রাখবে সেটা আপনার সিদ্ধান্ত। বর্তমানে আপনার লক্ষ্য কি আপনার অর্জন কি সেটা কি আপনার সাথে মেলে যদি আপনার লক্ষ্যর সাথে মেলে যায় তাহলে এটা নিয়ে দিনরাত মনোবল হয়ে কাজ করলে আপনার লক্ষ্য একদিন অর্জন করা সম্ভব।

আপনি নিজেকে ঠিক কোথায় দেখতে চান?

আমাদের ভিতরে একটা জড়তা হলো আমাদের কোন সঠিক পরিকল্পনা নেই। আমরা কি করি তার কোন ডেইলি রুটিন থাকে না। নিদিষ্ট সময়ে নিজেকে কোথায় দাড় করতে চাই তার ও কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে না।আমাদের দিন চলে যায় কি করে শুরু করবো কখন শুরু করবো এটা ভাবতে ভাবতে অনেক সময় অনেক দিন পার করে দি তবুও শুরু করবো শুরু করবো বলে শুরু টা করা হয়না। 

সফল মানুষরা তাই করে যা ব্যর্থ মানুষরা সচরাচর করতে চায় না, কখনো চিন্তা করো না সব কিছু সহজ হবে, চিন্তা কর তুমি সবার থেকে ভালভাবে করতে পারবে। সফল মানুষরা এতো কেন সফল আমরা কোন দিন কি এটা নিয়ে ভেবে দেখেছি। আমরা হারানোর ভয় কে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকি আমরা জয়ী হবার আগে নিজের আত্মবিশ্বাস কে হারিয়ে দি তাই আমরা সহজে জয়ী হতে পারিনা।

জয় হতে হলে নিজেকে আত্নবিশ্বাসী করে তুলতে হবে,হারার আগে একবার জিততেই হবে একবার অনেক বার হেরেছি আর হারবো না এবার আমাকে জিততে হবে এমন মন মানসিকতা থাকতে হবে আমাদের মাঝে তাহলে আমরা জিততে পারবো।

লক্ষ্য এবং সময়সূচী নিধারিত করা?

আপনি চাইলে হুট করে আপনার চূড়ান্ত লক্ষ্য পৌঁছাতে পারবেন না। আপনার লক্ষ্য পৌঁছাতে আপনার লক্ষ্য গুলোকে ছোট ছোট আকারে বিভক্ত করে নিতে হবে। আপনার লক্ষ্য কে ঠিক করে এক বছরের লক্ষ্য রেখে এগুলো কে মাসে, ৬ মাসে,সপ্তাহে, ডেইলি এইভাবে বিভক্ত করুন।

আজকে আপনি কি করবেন কালকে আপনি কি করবেন সব খাতায় লেখে প্রতিদিন দুইবার করে পড়ুন আপনার লক্ষ্য। আপনি নিজের লক্ষ্যটি কতটা সম্পন্ন করেছেন তার ভিত্তিতে প্রতিদিন নিজেকে পরিস্কার দিন। আপনার লক্ষ্য বা আপনার অজুহাতে আপনার পক্ষে কী গুরুত্বপূর্ণ তা সর্বদা নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন এবং কঠোর পরিশ্রম করুন।

 

নিজেকে আত্নবিশ্বাসী করার উপায়

সর্বদা নিজেকে প্রস্তুত রাখুন যে কোন কাজ করার জন্য। ভাগ্য কমপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ যদি আপনি কঠোর পরিশ্রম করেন। আমরা স্বল্পমেয়াদী সন্তুষ্টি অনেক উপভোগ করি। আপনি এক ঘন্টা কাজ করলে মনে হয় আপনি অনেক কিছু করে ফেলেছেন এটা ভাববেন না।আপনি এখনো হাটতে শিখতেছেন কতবার মাটিতে পরতে হবে তার হিসাব নেই।

মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকুন, কাজে মনোযোগি হোন। কাজের ফাঁকে রিলাক্স মুড প্রশোজন হয় রিলাক্স করার জন্য মোবাইলে ব্যবহার করবেন না।রিলাক্স করার জন্য একটু বাহিরে হাঁটতে পারেন বন্ধু সাথে ১০-১৫ মিনিট আড্ডা দিতে পারেন মোবাইল ব্যবহার করবেন না। সোশাল মিডিয়া আসক্ত হলে এটা ছেড়ে দিন এটা দেখেন নিজেকে পরিবর্তন করার জন্য ২৬ টি উপায় আপনি আপনার সময়সূচীতে আপনার শখ এবং আসক্তিগুলির জন্য সময় নির্ধারণ করতে পারেন। আপনার খারাপ আসক্তি গুলো কে বর্জন করতে চেষ্টা করুন। যা করবেন রুটিন নিয়ে কাজ করবেন রুটিন তৈরি করুন প্রতিদিন রুটিন ফলো করুন। সফল ব্যক্তিরা একইকাজ বার বার করে।

আপনার কাজের মধ্যে আপনাকে মার্ক জাকারবার্গ ডিস্টার্ব করতে পারে, তার মানে টা হলো ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপে আপনার মন লেগে থাকতে পারে মন বার বার এই দিকে ছুটতে পারে। আপনি অ্যাপগুলিকে আনইনস্টল করুন। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে হলে ইনস্টাগ্রাম + লিংকডিন+ কোরা+পিন্টারেস্ট এগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

এগুলোতে আপনি অনেক কিছু শিখতে পারবেন। আপনার উন্নতি প্রয়োজন, পড়াশুনা শুরু করুন এবং ফলাফল উন্নতি করুন। আপনার কি মনে আছে, কিছু মানুষ ভাবে আপনি কিছুই না, এবং জীবনে ভালকিছু করতে পারবেন না। এটাই সঠিক সময় কঠোর পরিশ্রম করার, আপনার সাফল্যে তাদেরকে দেখিয়ে দিন মানুষ চাইলে কিনা করতে পারে।

Scroll to Top