কক্সবাজার ভ্রমণ গাইড

কক্সবাজার ভ্রমণ গাইড | কক্সাবাজার ভ্রমণের জায়গা সমূহ – NicVel

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমুদ্র কিন্তু কক্সবাজারের অবস্থিত। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে আমাদের কক্সবাজার দেখতে আসে শুধু পৃথিবীর বাহির থেকে না। আমাদের দেশের হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসুরা প্রতিনিয়ত কক্সবাজার ভ্রমণ করতে আসে।  বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্থান হলো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত যার আয়তন ১২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট অখণ্ড এ সাগর। মনোমুগ্ধকর এই সমুদ্র এটা দেখতে বিদেশি পযর্টকদের সূর্যাস্থের মায়াজালে আবদ্ধ করে রাখে।কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি পৃথিবীর দীর্ঘতম অখন্ডিত সমুদ্র সৈকত।

এই সমুদ্র সৈকতটি বালুকাময়, কাদার অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। বালিয়াড়ি সৈকত নামে পরিচিত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি শামুক-ঝিনুকসহ নানা প্রজাতির প্রবাল সমৃদ্ধ বিপণি বিতান, অত্যাধুনিক হোটেল-মোটেল-কটেজ, নিত্য নবসাজে সজ্জ্বিত বার্মিজ মার্কেট সমূহে পর্যটকদের বিচরণে কক্সবাজার শহরে পর্যটন স্থান সম্রহকে। প্রাকৃতির নিয়ম বদলানো  শীত-বর্ষা-বসন্ত-গ্রীষ্ম এমন কোনো ঋতু নেই যখন সমুদ্র সৈকতের চেহারা বদলায় না। এই সমুদ্র সৈকতে আপনি প্রাকৃতির ভিন্ন সময়ে ভিন্ন রূপ দেখবেন।

শুধু বিদেশিদের আবদ্ধ করে না, আমাদেরকেও আবদ্ধ করে রাখে এই সমুদ্র সৈকত। এই ব্লগ পোস্ট থেকে আপনারা জানতে পারবেন কক্সবাজার ভ্রমণ গাইড, কোন জায়গায় আপনারা ঘুরতে পারবেন সবই এই আর্টিকেল থেকে জানতে পারবেন।

আমাদের জীবনে ভ্রমণ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ভ্রমণ করলে নতুন কিছু শেখা যায়, যেমন বই পড়লে অনেক কিছু জানা যায় ঠিক তেমনি ভ্রমণ করলে আপনাদের জীবনে শেখা শুরু হয় প্রাকৃতি সম্পর্কে। প্রাকৃতি থেকে জ্ঞান আহরণ করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ, প্রাকৃতি আমাদের কে অনেক কিছু শেখায়, প্রাকৃতির শেখার কোন শেষ নেই। আপনি যতই ঘুরতে যাবেন ততই আপনার মন ফ্রেশ থাকবে। যদি মনকে ভালো রাখতে চান তাহলে ভ্রমণের বিকল্প নেই ভ্রমণ মানুষকে উৎপল্ল করে।

আমাদের জীবনে ভ্রমণ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

ভ্রমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে আমাদের মানুষিক আনন্দের ক্ষেত্রে।যখন মন খারাপ বা কোনো ডিপ্রেশনে ভোগে তখন ভ্রমন থেকে কার্যকারী আর কোনো উপায় হতে পারে না।আর মন ভালো থাকলে দেহের অনেক রোগই কমে যায়। স্বাস্থ্যগত দিক থেকে ও ভ্রমনের অনেক ভুমিকা রাখে আমাদের জীবনে।আমাদের মন ফ্রেশ থাকলে পড়াশোনা বা কর্মে দিকে ভালো ফলাফল আশা করা যায়।  পড়াশোনা বা কর্মের দিক থেকে ও ভ্রমনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।আর নতুন কিছু জানার জন্য ভ্রমনের বিকল্প নেই।আর পৃথিবী সম্পার্কে নতুন জানতে ও দেখতে আর কি না ভালো লাগে।শিখতে চান তাহলে ভ্রমণে বেরিয়ে যান, মন ভালো রাখতে চান তাহলে ভ্রমণ করতে চলে যান। যে ভ্রমণ যদি কোন বীচের আশেপাশে হয় তাহলে তো আর কথায় নেই ।

কক্সবাজারে ভ্রমণের উপযুক্ত সময় কখন?

আমরা অনেকে কনফিউজড হয়ে যায় কোন সময় ভ্রমণ করলে ভালো হবে, কোথায় ভ্রমণ করলে ভালো হবে।ঘুরতে যেতে তো সবারই ইচ্ছে করে। তবে পারিপার্শ্বিকতার কারণে সবসময় তো আর ট্যুর মুডে থাকা যায় না। ছোটখাট বিভিন্ন সমস্যা লেগেই থাকে।সাধারণত কক্সবাজার ভ্রমণের জন্যে সবাই শীতকালকেই বেছে নেন। কক্সবাজার এমন একটা পর্যটক জায়গা যেখানে আপনি সবসময় ঘুরতে যেতে পারেন, শীতকাল কিংবা গরম কাল যে কোন সময় আপনি কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারেন।  শীতকাল ভ্রমণের জন্য সেরা হলেও পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়াটা বেশ চ্যালেঞ্জের হয়ে দাঁড়ায় যদি পরিবারে ছোট শিশুরা থাকলে ঘুরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বিষয় বিবেচনা করতে হয়। শীতকালে সিজন হওয়ায় বিভিন্ন পর্যটককেন্দ্রগুলোতে যাওয়া-থাকা-খাওয়ার খরচ অনেক বেড়ে যায় শীতকাল এমন একটা সিজন যেখানে আপনি অন্য সময় তে গেলে ৫০% মতো টাকা সেব করতে পারবেন কিন্তু শীতকালে এই টাকাটা সেব করা সম্ভব হবে না।প্রকৃতির নিয়ম হলো বদলানো,প্রকৃতি যে কোন সময় বদলাতে পারে। এই বদলানোর মূহুর্ত দেখতে চলে আসুন  বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে। তাই ভিন্ন স্বাদ নিতে বর্ষায় বা শরতের নীল আকাশের সাথে মিতালির জন্যে চলে যেতে পারেন কক্সবাজার, শীতকালে সিজন থাকে এমন না, আপনি যে কোন সময় কক্সবাজার ঘুরে আসতে পারবেন।শীতের সময় পর্যটকের ভীড় থাকে বেশি, শীতকালে আপনি কক্সবাজার গেলে সাগরের ভিন্ন স্বাধ পাবেন।

কীভাবে কক্সবাজার ভ্রমণ করবেন, যাতায়াত ব্যবস্তা কেমন?

আপনি স্থলে, জলে, আকাশ সীমায় উভয় ভাবে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারবেন। ঢাকা থেকে কক্সবাজার সড়ক, রেল এবং আকাশপথে যাওয়া যায়। এখনো সরাসরি ঢাকা থেকে কক্সবাজার রেলপথ চালু হয়নি তবে ২০২৩ সাল নাগাদ ঢাকা থেকে কক্সবাজার রেলপথে আসা সম্ভব হবে, আপনি চাইলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে রেল নিয়ে এসে আবার গাড়ীতে আসতে পারবেন। অথবা সরাসরি ঢাকা টু কক্সবাজার গাড়ী পথে চলে আসতে পারবেন।  ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী বাসগুলোর মধ্যে উল্লেখ্য হলোঃ গ্রিন লাইন, সোহাগ পরিবহন, সৌদিয়া, শ্যামলী পরিবহন, এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, , হানিফ ,   এস.আলম পরিবহন, মডার্ন লাইন ইত্যাদি।

শ্রণী ভেদে বাসগুলোর প্রতি সীটের ভাড়া ৯০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার  মধ্যে হয়ে থাকে।

আকাশ পথে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়া যায়, বাংলাদেশ বিমান, নভোএয়ার, ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। ঢাকা থেকে কক্সবাজার বিমান ভাড়া ৩৯৯৯/- থেকে ১২,০০০/-  পর্যন্ত হয়ে থাকে।

কক্সবাজারের থাকার ব্যবস্থা?

বর্তমানে কক্সাবাজার ছোট্ট বড় অনেক হোটেল রয়েছে। আপনি যে কোন হোটেল থাকতে পারবেন আপনার বাজেট এর মধ্যে হোটেল পেয়ে যাবেন। তবে শীতকালে আপনার থেকে অগ্রিম বুকিং দিয়ে আসতে হবে তাহলে আপনার থেকে হোটেল জন্য প্যারা থাকবে না। আমরা প্রতিনিয়ত কক্সবাজার কম বাজেটে এর হোটেল তথ্য NicVel নিয়ে আসবো, আপনারা চাই লে এখান থেকে সরাসরি হোটেল বুকিং দিতে পারবেন আপনাদের বাজেট এর মধ্যে।

আপনারা যখনই আসেন না কেনও বুকিং দিয়ে আসলে আপনাদের ভ্রমণ টা আরও সাশ্রয় হয়, আপনাদের হোটেল খুঁজতে সময় নষ্ট করতে হবে  না। অগ্রিম বুকিং দিয়ে আসলে আপনারা সরাসরি হোটেলে চলে আসতে পারবেন।অগ্রিম বুকিং দেওয়ার কারণে আপনাদের সময় টা বেঁচে যাবে। নবেম্বর থেকে জানুয়ারি প্রথম দিকে হোটেল গুলোতে ভীড় বেশি থাকে, তখন পর্যটকরা কক্সবাজারের বেশি আসে এই সময়ের মধ্যে। এই সময় এর মধ্যে হোটেল এর প্রাইস থাকে অনেক হাই,  কোয়ালিটি অনুযায়ী হোটেল প্রাইস ৩০০০/- থেকে ১০০০০/- এর মধ্যে আপনি হোটেল পেয়ে যাবেন ভালো কোয়ালিটির। এটা হলো শীতকালে সিজন এর জন্য গরম কালে  বা অন্য সময়ে এই হোটেল এর প্রাইস একদম কমে যায় ভালো মানের হোটেল ১৫০০/- থেকে ৫০০০/- এর মধ্যে হোটেল পেয়ে যাবেন।

এই পোস্টে হোটেল অফার সম্পর্কে তেমন আলোচনা করতেছি না, পরবর্তী পোস্ট কোন হোটেল আপনার কত টাকায় থাকতে পারবেন সব নিয়ে আলোচনা করবো। শুধু মাত্র আপনাদের কে একটা ধারণা দিয়েছি  হোটেলে  কি রকমে প্রাইস হতে পারে।

অফসিজনে হোটেলের ভাড়া সাধারণত অর্ধেকেরও কম থাকে। হোটেল অনুযায়ী ৪০-৬৫% পযন্ত ডিসকাউন্ট পেতে পারেন হোটেল অনুযায়ী।

আপনি যদি আপনার পরিবার নিয়ে একটু স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করতে চান তবে ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে পারেন পরিবার নিয়ে আসলে অবশ্যই ভালো মানের হোটেলে থাকার চেষ্টা করবেন হোটেল অনুযায়ী প্রাইস পাবেন। অনেক গেস্ট হাউসে আছে যারা এসি প্রোভাইড করে থাকে তাতে তেমন সাভির্স পাবেন না, পরিবার নিয়ে ট্যাুর দিলে ভালো পরিবেশে হোটেল নেওয়ার চেষ্টা করবেন।Nicvel আপনাদের কে হেল্প করবে কম বাজেটে হোটেল, খাবার, কোন জায়গায় ভ্রমণ করবেন সব নিয়ে। আপনার আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় সাথে কানেক্টেড থাকুন এবং আমাদের ওয়েবসাইট রেগুলার ভিজিট করুন বিভিন্ন ভ্রমণ বিষয় জানতে পারবেন।

কক্সবাজারের খাওয়া হোটেল এবং মূল্য?থাকার জায়গা তো হলো, এবার তো খেতে হবে। কক্সবাজার অনেক হোটেল আছে তাদের নিজস্ব রেস্টুরেন্টে আছে।আপনারা চাইলে তাদের রেস্টুরেন্টে খেতে পারেন অথবা বাহিরে কোথাও গিয়ে খেতে পারেন। কক্সবাজারে সব ধরণ ও মানের রেস্টুরেন্ট পাবেন। বাজেট রেস্টুরেন্টের পাবেন, হাই রেস্টুরেন্টে পাবেন, আপনাদের কে সাজেশন করবো রেস্টুরেন্টে এর সুনাম দেখে খাবার খেতে, আগে থেকে সেই রেস্টুরেন্টে এর সম্পর্কে জেনে তার পর আপনাদের খাবার খাওয়া হলো সবচেয়ে ভালো হবে। বাজেটের মধ্যে ৩০০-৪০০ টাকার মধ্যে ভালো মানের খাবার খাওয়া যাবে। একদম মিডিয়াম বাজেট ১৫০-২৫০ টাকার মধ্যে ২ জন মানুষের খাবার খাওয়া যাবে ভালো মানের। আমরা পুরো কক্সবাজারের রেস্টুরেন্টে নিয়ে আর্টিকেল নিয়ে আসবো খুব শিগগিরই। কোন হোটেল কি রকম রেস্টুরেন্টে আছে, তাদের প্রাইস কেমন, কোন রেস্টুরেন্টে কেমন, বাজেট কত হলে ভালো মতো খাওয়া যাবে ইত্যাদি। এসব নিয়ে বিস্তারিত NicVel আর্টিকেল নিয়ে আসবে।

কক্সবাজারের পর্যটক স্থান সমূহ?

সাধারণত পর্যটক আসে, সমুদ্র দেখতে, এই সমুদ্র মানুষের মনকে হালকা করে দেয়। কক্সবাজারের পর্যটকদের স্থান সম্রহ, এই স্থান গুলো তে আপনারা ঘুরে আসতে পারেন।

#1 কলাতলী বিচ

কলাতলী বিচ কক্সবাজারের আরেকটি পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র।ঢাকা থেকে বা দূর দূরান্তে থেকে যখন পর্যটক কক্সবাজারের আসে তখন তাদের ডলফিন মোড় কলাতলীতে নামিয়ে দেয় গাড়ি থেকে। পর্যটক রা গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি সমুদ্রের বাতাস অনুভব করতে পারে কলাতলী বীচ থেকে। পর্যটক রা যখন অনেক লম্বা সময় নিয়ে জার্নি করে আসে তাই সরাসরি বিশ্রামের প্রয়োজন হয়, তাই পর্যটক রা সরাসরি সমুদ্র দেখতে যায় না আগে বিশ্রামের জন্য রেস্ট নেই তার পর ফ্রেশ হয়ে এই সমুদ্র সৈকতে চলে যায়। কক্সবাজারে কয়েকটি বীচ এর মধ্যে উল্লেখ্য হলো কলাতলী বীচ,এটা কক্সবাজারের মেইন পর্যটন জায়গায় অবস্থিত।

কলাতলী বিচ
Sunset

বিভিন্ন বয়সের বিভিন্ন মানুষ এখানে ভ্রমণ করতে আসেন, সমুদ্রে গোসল করতে আসেন, আসেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কলাতলী বিচে নানা ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্টসহ আরো অনেক পর্যটন সুবিধা রয়েছে।আমাদের তালিকায় এটাকা #১ নাম্বারে রাখার কারণ হলো এটা কলাতলীতে অবস্থিত, পর্যটকরা গাড়ি থেকে নেমে বীচের স্বাধ নিতে পারে তাই এটাকে #১ নাম্বারে রাখা হয়েছে, এই বীচের পাশে ভালো মানের হোটেল-মোটেল পাবেন থাকার জন্য। খাবার জন্য ভালো মানের হোটেল ও পেয়ে যাবেন কলাতলী বীচের আশেপাশে। আপনি কক্সবাজার আসলে অবশ্যই এখানে যাবেন।

#2 সুগন্ধা বীচ

কলাতলী বীচের পর আসে সুগান্ধা বীচ। এই বীচ পর্যটক দের জন্য সবচেয়ে ভালো এবং উপভোগ করার মতো একটা জায়গা।এই বীচের নতুন রাস্তা, নতুন নতুন রেস্টুরেন্টে এবং হোটেল নিয়ে সুগান্ধা বীচ তৈরি। পর্যটক দের চাহিদা অনুযায়ী এই বীচকে সাজানো হয়েছে বলতে পারেন, বিভিন্ন শুটকির দোকান, রাস্তা পাশে সী ফুড দিয়ে ভর্তি, সত্যি বলতে এই বীচ আমাকে মনোমুগ্ধকর করেছে, সুগান্ধা বীচে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার পর্যট আসে।

সুগন্ধা বীচ
সুগন্ধা বীচ

অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে বীচ তো বীচই, সআ জায়গায় তো সমুদ্র তাহলে এটাতে এমন বলার কি আছে। আপনি যখন বীচে গিয়ে কোন মানুষ না দেখবেন তখন আপনার ভালো লাগবে না, যদি আপনারা আশে পাশে হাজার হাজার মানুষ থাকলে আপনার মনটা ভালো লাগবে, কক্সবাজারের কয়েকটি বীচ এর মধ্যে এটি ও একটি। আপনারা কক্সবাজার ভ্রমণে আসলে অবশ্যই এই বীচে আসবেন।

#3 লাবনী বিচ

কক্সবাজারে সমুদ্র সৈকত বললে প্রথমেই চোখে ভেসে ওঠে কক্সবাজারের  অবস্থিত কক্সবাজার পুরাতন সি-বিচ যা লাবণী পয়েন্ট বা পুরাতন সি-বিচ হিসেবেও পরিচিত।এটি সবার আগে তৈরি বীচ লাবণি বীচ নামে পরিচিত। এটি কক্সবাজারের পুরাতন বীচ হিসেবে ও পরিচিত। এই বীচ সুগান্ধা বীচের পর পরই অবস্থান। এটিকে আমাদের #১ নাম্বারে রাখা উচিত ছিলো, আমরা আমাদের ভিজিটরের সুবিধার জন্য সারিবদ্ধ ভাবে আগের টা আগে স্থান দেওয়া হ’য়েছে। কক্সবাজার বীচ মানে হলো লাবণি বীচ এটা সাবার আগে অবস্থিত তাই এটাকে স্থান দেওয়া হয়েছে। এই বীচ এর সুন্দরতা অন্যন্য বীচ এর তুলনায় একটু ভিন্নতা পাবেন, এখানে রয়েছে Sheikh Kamal  International Cricket Stadium এটি অবস্থিত লাবণি বীচে, এছাড়া এর আশেপাশে রয়েছে অনেক সুন্দর সুন্দর হোটেল যা আপনাকে মুগ্ধ করবে।কক্সবাজারের বীচ দেখতে দেশ- বিদেশে থেকে অনেক পর্যটক এখানে চলে আসে। এই বীচে আপনি কি করে আসতে পারেন?

লাবনী বিচ
লাবনী বিচ

এই বীচে আসতে হলে আপনাকে একটা অটোরিকশা অথবা টমটম নিয়ে চলে আসতে পারবেন। প্রথমে কলাতলী বীচ তার পর সুগান্ধা বীচ তার পর লাবণি বীচ। কলাতলী বীচ থেকে সুগান্ধা বীচের দূরত্ব ৪-৫ মিনিট মতো  অটোরিকশায় সুগান্ধা বীচ থেকে আপনি পায়ে  হেটে হেঁটে  ও লাবণি বীচে চলে যেতে পারবেন ৫-৭ মিনিট হাঁটলে। অথবা সুগান্ধা পয়েন্ট থেকে আপনি একটা অটোরিকশা করে সরাসরি লাবণি বীচে চলে যেতে পারবেন। এই বীচ কক্সবাজার শহর থেকে কাছে তাই এটাকে প্রধান সমুদ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এছাড়া এখানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে  ঝিনুক মার্কেট। সীমান্তপথে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, চীন বিভিন্ন  দেশ থেকে আসা বাহারি জিনিসপত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে এই মার্কেট৷ স্থানীয় অনেক কিছু পাবেন এই মার্কেটে।

#4 হিমছড়ি

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত হিমছড়ি পর্যটন কেন্দ্রটি এইখানেও একটা বীচ রয়েছে যা অন্যন্য বীচ এর তুলনায় একটু ভিন্ন  এই বীচে আপনি পাথর দেখতে পারবেন।এই বীচ পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এ সমুদ্র সৈকতের নাম রাখা হয়েছে হিমছড়ি।হিমছড়ি পাহাড় অনেক উচুতে এই পাহাড় উড়তে আপনাকে টিকিট কেটে উড়তে হবে, এই টিকেট এর মূল্য ১৭০/- টাকা করে নিয়ে থাকে প্রতি জন এই পাহাড়  অনেক উচুতে।

হিমছড়ি

এখানের রয়েছে ঝর্ণা, এই প্রকৃতির ঝর্ণায় আপনি গোসল করতে পারবেন, এই পানি আসে পাহাড় দিয়ে প্রকতির এক লিলা ভূমি এখানে রয়েছে। আপনি পাহাড়ে উঁচুতে গেলে এখান থেকে একটা সুন্দর দৃশ্য দেখতে পারবেন পুরো শহরের।  এখানকার সমুদ্র সৈকতটি কক্সবাজারের চেয়ে অপেক্ষাকৃত নির্জন ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। এখানে আপনাকে মুগ্ধ করতে পারে মেরিন ড্রাইভ রাস্তাটি, অনেক সুন্দর  সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হিমছড়ি যত না সুন্দর রোমাঞ্চকর হল কক্সবাজার থেকে এ সৈকতে যাওয়ার পথটি। রাস্তার এক পাশে রয়েছে সবুজ পাহাড় আরেক প্রান্ত আছে সমুদ্রর বালুকা বেলা মাঝে পিচ ঢালা মেরিন ড্র্রাইভ। এমন দৃশ্য সম্ভবত দেশের আর কোথাও পাওয়া যাবে না এমন প্রকৃতির সুন্দরতম দৃশ্য।

#5 ইনানি বিচ

হিমছড়ি পরে ঘুরতে যাওয়ার স্থান আসে ইনানি বীচ হিমছড়ি  থেকে আরো ০৫ কিলোমিটার গেলেই ইনানী  সমুদ্র সৈকত। ইনানী বীচে প্রবাল পাথরের ছড়াছড়ি। অনেকটা সেন্টমার্টিনের মতই লাগবে আপনার থেকে আসলে এটা সেন্টমার্টিন না এটা হলো ইনানি বীচ। মেরিন ড্রাইভ দিয়ে, রাস্তা এক প্রান্ত দিয়ে পাহাড় অপর প্রান্তে রয়েছে সমুদ্রের বালুকাবেলা এটা আপনাকে মুগ্ধ করবে।

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এবং ইনানি বীচ এর মধ্যে তফাত হলো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বড় বড় ঢেউ আছে কিন্ত ইনানি বীচে বড় বড় ঢেউ নেই, এখানে আছে পাথর, ভাটার সময়েই কেবল মাত্র বিশাল এলাকা জুড়ে ভেসে উঠে এই পাথর। কক্সবাজার বীচে আপনি লাফালাফি করতে পারবেন কিন্ত ইনানি বীচে বেশী লাফালাফি করা বিপদজনক।ইনানী সৈকতের প্রধান আকর্ষণ প্রবাল পাথর, প্রতিটা পাথর নানা রকমের হয়ে থাকে্‌।

ইনানি বিচ

#6 সোনাদিয়া

বীচ দেখা হয়ে গেলে, এবার দ্বীপ দেখতে চলে যেতে পারেন সোনাদিয়া দ্বীপে,কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার একটি সুন্দর দ্বীপ।এই দ্বীপের আয়তন প্রায় ৯ বর্গ কি.মি.। কক্সবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কি.মি. উত্তর-পশ্চিমে এবং মহেশখালী দ্বীপের দক্ষিণে সোনাদিয়া দ্বীপটি অবস্থিত। একটি খাল দ্বারা এটি মহেশখালী দ্বীপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে।এই দ্বীপে  তিন দিকে সমুদ্র সৈকত,ছোট-বড় খাল বিশিষ্ট প্যারাবন এবং বিচিত্র প্রজাতির জলচর পাখি দ্বীপটিকে করেছে অনন্য বৈশিষ্ট্যমন্ডিত এই দ্বীপটি দেখতে বিভিন্ন ট্যুারিস্ট এখানে যাই। এই দ্বীপে আপনাকে পাখিদের কোলাহল মুগ্ধ করবে , এই দ্বীপটি মনে হয় পাখিদের স্বর্গ,দ্বীপের পশ্চিমাংশে বালুকাময় ও ঝিনুকের জন্য বিখ্যাত। এই টি কক্সবাজার থেকে প্রায় ০৭ কিলোমিটার দূরে মহেশখালী উপজেলায় এর অবস্থান।

1 thought on “কক্সবাজার ভ্রমণ গাইড | কক্সাবাজার ভ্রমণের জায়গা সমূহ – NicVel”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top