ইনানী সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ গাইড

ইনানী সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ গাইড – Nicvel.com 

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বিশ্বের কাছে পরিচিত একটা সমুদ্রের এর নাম।ইনানী সমুদ্র সৈকত বঙ্গোপসাগরের একটি সমুদ্র,সময়ের সাথে দাড় পাল্লায় এটি একটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়। কক্সবাজার জেলার পর্যটন সেক্টরে ইমারজিং টাইগার হচ্ছে ইনানী এটা দেখতে অনেক অংশ সেন্টমার্টিন এর মতো।

 কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ইনানী বীচ। এই বীচে রয়েছে ছোট বড় অনেক পাথর, এইটি মেরিন ড্রাইভ রাস্তা দিয়ে যেতে হয়। এটি  হিমছড়ি থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, হিমছড়ি পরে এটির স্থান, এই বীচে যেতে আপনার চোখে পড়বে অনেক সুন্দর সুন্দর পাহাড় এবং সমুদ্র সৈকত এই অপূর্ব জায়গাটি বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটন আকর্ষণ। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত দীর্ঘ একশো বিশ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতের মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ইনানী সৈকত। এই সমুদ্র সৈকত দেখতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা আগমন করে। এ-ই অপূর্ব সুন্দর সমুদ্র সৈকত দেখতে আপনাকে এখানে একবার আসতেই হবে। আজকের ব্লগ পোস্ট ইনানী বীচ নিয়ে সাজানো। 

ইনানী বীচ কোথায় অবস্থিত?

ইনানী বীচ কক্সবাজার অবস্থিত, কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণে এর অবস্থান, হিমছড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ইনানী বীচ। ইনানী বীচ আর সুগান্ধা বীচের মধ্যে তফাত কি? অনেক তফাত লক্ষ্য করতে পারবেন, ইনানী বীচে তেমন বড় ঢেউ নেই যা সুগান্ধা ও লাবণি বীচে আছে, ইনানী বীচে শান্ত বীচ মনে হবে আসলে এটা শান্ত না, এখানে রয়েছে ছোট বড় অনেক পাথর এই পাথর অনেকটা বিপদজনক হয়ে ওঠে। 

যদি একটু ভুল হলে আপনার হাত, পা কেটে যাওয়া সম্ভব না আছে। এখানে রয়েছে জীবন্ত প্রবল। এই প্রবল দেখতে অনেকটাই পাথরের মতো দেখতে এই প্রবল গুলো খুবই সুন্দর। এই বীচে মূল আকর্ষণ হলো  ছোট ছোট ঢেউ এসে পাথরে ওপর, এই পাথরে ওপরে দাড়িয়ে পা ভেজাতে অনেক আনন্দের। ইনানী বীচে যেতে আপনার অনেক ভালো লাগবে প্রাকৃতির একটা লিলা ভূমি যেন এখানে। এখানে অনেক রেস্টুরেন্টে রয়েছে যা পযর্টকদের জন্য খাবার খাওয়া জন্য খুব ভলো। এই বীচের ঢেউ ছোট হওয়ায় গোসল করা অনেক টা সহজে, তবে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে যেখানে পাথর নেই সেখানে আপনার থেকে গোসল করতে হবে।  

প্রবল আর পাথর একসাথে দেখতে হলে আপনার থেকে ইনানী যেতে হবে  শান্ত প্রকৃতির সৈকত এই ইনানী। জোয়ারের সময়ব হলে পানির স্রোত বেড়ে যায়, এই জোয়ারের সময়  প্রবাল পাথরের দেখা পাওয়া যায় না। ভাটার সময়েই পানির স্রোত কমে কেবল মাত্র বিশাল এলাকা জুড়ে ভেসে উঠে এই পাথর। পাথরে লেগে থাকে প্রবাল লেগে থাকে ধারালো শামুক ঝিনুক। একটু অসবধানাতা হলে এখানে বিপদ হতে পারে,  পাথরের মধ্যে লাফালাফি করা যাবে না। পাথরে মধ্যে লাফালাফি করলে হতে পারে বিপদ এখানে লাফালাফি করা থেকে বিরত থাকুন। 

ইনানী সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ
ইনানী সমুদ্র সৈকত

ইনানী বীচের যাওয়ার উপায়? 

ইনানী বীচে যেতে হলে আপনাকে প্রথমে যেতে হবে, কক্সবাজার, কক্সবাজার ভ্রমণ গাইড টি দেখুন,

কক্সবাজারের কি করে যাবেন কক্সবাজার ভ্রমণের সমগ্র বণর্না ঔই গাইডে দেওয়া হয়েছে এটা পড়লে আপনি কক্সবাজার সম্পর্কে পুরো আইডিয়া পাবেন। ইনানী বীচ কক্সবাজার শহর থেকে দক্ষিণে অবস্থিত, এই খানে যেতে আপনাকে আগে কক্সবাজার যেতে হবে, আপনি নিশ্চয়ই সরাসরি ইনানী বীচে যাবেন না,আগে কক্সবাজারের মেইন বীচের পরেই তো ইনানী বীচে যাবেন। আমরাও এটা রিকমেন্ড করি, সরাসরি ইনানী বীচে না যেতে, আগে কক্সবাজারের মেইন বীচ তার পর ইনানীর বীচ। ইনানী বীচের প্রধাব আর্কষণ কি? ইনানী সৈকতের প্রধান আকর্ষণ প্রবাল আর পাথর। এই বীচ আপনার মনে হবে সেন্টমার্টিন এর একটা অংশ। ইনানী বীচের পাথর গুলো অনেক পুরাতন, এই পাথর বীচের ভাঙ্গন বন্ধ করতে ও সাহায্য করে। 

ইনানী যাওয়া উপায়? 

আপনি যেখানে আছেন, সেখান থেকে প্রথমে আপনাকে কক্সবাজার আসতে হবে।কক্সবাজারের ডলফিন মোড় থেকে, মেরিন ড্রাইভ রাস্তা দিয়ে আপনাকে ইনানী যেতে হবে। মেরিন ড্রাইভ দিয়ে ইনানী বীচে যাওয়ার পথে এই রাস্তাটি আপনাকে মুগ্ধ করে দিবে। যাওয়ার পথে উঁচু উঁচু পাহাড় আর উত্তাল সমুদ্রের ঢেউ, শুধু চোখই জুড়বে না, বরং পুরো সময়টা আপনাকে আনন্দের হাতছানি দিবে।  এক পাশে পাহাড় আরেক পাশে সাগর,চলার পথে ঠান্ডা বাতাস আপনাকে প্রশান্তি এনে দিবে৷ 

কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা পয়েন্টে যা সুগান্ধা বীচের পাশে ইনানী বীচ যাবার জন্য খোলা জীপ পাওয়া যায়, আপনারা যদি গ্রুপ আকারে এসে থাকেন তাহলে আপনারা জীপ নিয়ে ইনানী যেতে পারবেন,  মাইক্রোবাস ইত্যাদি এগুলো নিয়ে যাওয়া যায় ইনানী তে। চাঁদের গাড়ী নিয়ে অনায়সে ১০-১৫ জন চলে যেতে পারবেন দাড়িয়ে দাড়িয়ে যেতেই কতই না ভালো লাগে, মৌসুমে নিয়ে এই গাড়ির দাম ঠিক হয়, শীতকালে এই গাড়ি ভাড়া গুলো একটু বেশি নেই, আন সিজনে কম টাকায় যাওয়া যাবে। ১৫০০-২৫০০ টাকার মধ্যে আপনারা ঘুরে আসতে পারেন, এটা আপনাদের দামাদামি করে নিবেন। গাড়িভাড়া কম বেশি হতে পারে। আপনারা যদি ছোট পরিবার হন ৫-৬ জন তাহলে আপনারা সিএনজি অথবা টমটম নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন।সিএনজি তে গেলে তাড়াতাড়ি যাওয়া যায়, যদি আনন্দ করতে চান তাহলে টমটম নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে ভালো উপায়। টম টম নিয়ে গেলে আপনার সুন্দর মতো পাহাড় আর সমুদ্রের বাতাস উপভোগ করে যেতে পারবেন। যাওয়ার আগে অবশ্যই দামাদামি করে নিবেন, দামাদামি না করে গাড়িতে উঠবেন না টমটম ৪০০-৪০০ টাকা নিতে পারে আসা যাওয়ার, কম বেশি হতে পারে। 

ইনানী বীচে যাওয়ার সঠিক সময় কোনটি?

আপনি যে কোন সময় যেতে পারেন।আপনারা যদি কক্সবাজারের ৫-৭ দিন থাকার পরিকল্পনা থাকলে, ইনানী বীচে পুরো একদিন ঘুরতে রাখতে পারেন। যদি আপনার থাকার পরিকল্পনা কম হয় তাহলো কিছু সময়ের জন্য গিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। ইনানী যাওয়ার আগে পরিকল্পনা করতে পারেন, সেখানে গোসল করবেন কিনা, যেহেতু এটা বীচ তাই গোসল করা যেতে পারে। যদি গোসল করার পরিকল্পনা থাকে তাহলে সকালে যাওয়া উওম। যদি সাগরে নামার কোন পরিকল্পনা না থাকলো বিকেলে ৩.০০-৪.০০ টার দিকে ইনানী বীচে ঘুরে আসতে পারেন। বিকেলে গেলে সূর্যাস্ত উপভোগ করে ফিরে আসতে পারবেন।সাধরণত বিকেলে জোয়ার থাকে বলে  অন্য সময়ের তুলনায় এই  সময়ে মানুষের ভিড় কিছুটা কম থাকে।সকালে দিকে মানুষ বেশি আগমন করে এই বীচে।সমুদ্রের নিজস্ব রূপ দেখতে বিকেলে যাওয়া ভালো, ডুবন্ত সূর্য, সাগরে ডাক শুনতে কতই না ভালো লাগে।

আপনারা সকালে গেলে, খাবার দাওয়া জন্য চিন্তা করতে হবে না, ভালো মানের রেস্টুরেন্টে পেয়ে যাবেন। রাতে থাকার কোন প্রয়োজন নেই, আপনারা সরাসরি কক্সবাজার হোটেলে চলে আসতে পারবেন। ইনানী বীচে একদিন এর চেয়ে বেশি সময় দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। আপনাদের কোন সমস্যা মুখোমুখি হলে ট্যাুরিস্ট পুলিশের সহায়তা নিবেন সব সময় আপনাদের কে সহয়তা করবে ট্যাুরিস্ট পুলিশ। 

ইনানী বীচে খাওয়া ব্যবস্তা কেমন?

স্বাস্থ্যই সুখের মূল! শরীর ভালো থাকলে তো ঘুরাঘুরি ভালো লাগবে, স্বাস্থ্য খারাপ হলে তো পুরো ভ্রমণ টা ও বেহাল দশা হয়ে যাবে। আমরা এখনো তেমন রেস্টুরেন্টে সাজেশন করতেছি না, আমরা নিজেরা রিভিউ করে তার পর রেস্টুরেন্টে সাজেশন করবো। কোন রেস্টুরেন্টে কি রকমের খাবার পাওয়া যায়, কোথায় কি কি পাওয়া যায় ইত্যাদি সবই আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে আসবো। আপনাকে বাজেট ট্যাুর দিবে nicvel.com আমাদের সাথে থাকুন আমরা আপনাদের জন্য সহজ ভাবে ট্যাুর এবং বিভিন্ন হোটেল এর রিভিউ নিয়ে আসবো। 

ইনানী তে ও ভালো মানের খাবার পাওয়া যায়,তবে কক্সবাজারের তুলনায় একটু দাম বেশি, আপনার যদি সকালে গেলে  ইনানী তে অনেক ভালো মানের খাবার পাবেন সেগুলো খেতে পারেন। যদি বিকেলে টাইমে গেলে দুপুর বেলায় খাবার খেয়ে চলে যাবেন রাতের খাবার টা না হয় কক্সবাজার এসে খাবেন। এই আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। এই আর্টিকেলটি শেয়ার করুন, শেয়ারের মাধ্যমে অন্যারা জানতে পারবে। 

ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। সেখানে সেখানে ময়লা ফেলবেন না।আমরা আমাদের পরিবেশ সুন্দর রেখে আমাদের ভ্রমনটাকে আরও আনন্দ ময় করি। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top