আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ ভ্রমণ

চট্রগ্রাম ভ্রমণঃ আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ ভ্রমণ – ২০২২

ভ্রমণ করতে সবারই ভালো লাগে, ভ্রমণ করতে গেলে আমাদের মন ফ্রেশ হয়। ভ্রমণ করতে গেলে আমাদের মনে একটা আনন্দ বা উৎসাহ চলে আসে নতুন নতুন কোন কিছু জানার জন্য। আজকে আপনাদের কে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ (Anderkilla Shahi Jame Masjid) ট্যাুর সম্পর্কে বলবো।

আমরা বইয়ে তে আন্দরকিল্লা মসজিদ দেখেছি এবং অনেক কথা শুনেছি এই মসজিদ সম্পর্কে।আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ
চট্টগ্রাম শহর থেকে প্রায় ৭.৬ কিলোমিটার দূরে আন্দরকিল্লা সার্কেলের কাছে অবস্থিত।

আন্দরকিল্লাহ নাম শুনলে মোঘলদের কথা মনে পরে। মোঘল আমলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য নিদর্শন আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ । চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ইসলামি স্থাপনা চাটগছার আন্দরকিল্লা শাহী মসজিদের সঙ্গে মোগলদের চট্টগ্রাম বিজয়ের কাহিনি সম্পর্কিত। এ কেল্লায় এক সময় পর্তুগিজ জলদস্যুদের আস্তানা ছিল বলে জানা যায়। চট্টগ্রাম বিজয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে সম্রাট আওরঙ্গজেবের নির্দেশে শায়েস্তা খাঁ ১৬৬৭ খ্রিষ্টাব্দে এখানে নির্মাণ করেন “আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ।১৬৬৬ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রামের তৎকালীন মোগল শাসনকর্তা শায়েস্তা খাঁর ছেলে উমেদ খাঁ এ কেল্লার ভেতরে প্রবেশ করলে তখন থেকে এর নাম হয় ‘আন্দরকিল্লা’।চট্টগ্রাম বিজয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে সম্রাট আওরঙ্গজেবের নির্দেশে শায়েস্তা খাঁ ১৬৬৭ খ্রিষ্টাব্দে এখানে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ নির্মাণ করেন।

আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের ইতিহাস?

১৬৬৭ খ্রিস্টাব্দ আরবি ১০৭৮ হিজরিতে মোগলদের চট্টগ্রাম বিজয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে জলদস্যুদের আস্তানায় মসজিদ নির্মাণ করেন শায়েস্তা খাঁ। এ মসজিদের নামকরণ করেন ‘আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ’। মুসলিম দের চট্টগ্রাম এর বিজয় স্মারকস্বরূপ কালে সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। সম্রাট আওরঙ্গজেবের নির্দেশে আন্দরকিল্লায় মসজিদ তৈরি করা হয়।এই মসজিদের মূল ভবনের প্রবেশ পথে কালো পাথরের খোদাই করে সাদা অক্ষরে ফার্সি ভাষায় লেখা রয়েছে যার বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়- ‘হে জ্ঞানী! তুমি জগৎবাসীকে বলে দাও, আজ এ দুনিয়ায় ২য় কাবা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যার প্রতিষ্ঠাকাল ১০৭৮ হিজরি। এখানেই খোদাই করা রয়েছে তার প্রতিষ্ঠার নামও।

এই মসজিদটি চট্টগ্রাম সহ্য আশেপাশে মানুষের ধর্মীয় আবেগ, অনুভূতি প্রাকশ পাই। এই মসজিদ জুমার নামাজ পড়তে বিভিন্ন জেলা থেকে এ মসজিদে মুসল্লিরা উপস্থিত হন। সময়ের সাথে ঐতিহাসিকভাবে গুরত্বপূর্ণ হয়ে উঠা আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে ধর্মীয় ইবাদতের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই মুঘল আমলের সুন্দর স্থাপত্যকর্ম দেখতে আসেন। আপনি যদি চট্টগ্রাম ভ্রমণ করতে গেলে এই ঐতিহাসিক স্থানটি ভ্রমণ করতে পারেন।

আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ এটি কেন জনপ্রিয় ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য?

এই মসজিদ টি জনপ্রিয় হবার কয়েকটি কারণ পাওয়া যায়, তার মধ্যে অন্যতম হলো এটি মোঘল সম্রাট আমলে তৈরি, এটি অনেক পুরাতন একটা মসজিদ। এই আন্দরকিল্লা দেখতে অনেক ট্রাবলার প্রতি নিয়ত ভ্রমণ করে থাকে। এমন এক জনপ্রিয় মসজিদ একসময় হারিয়ে যাবার পথে ছিলো। কালের বিবর্তনে, ১৭২৩ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রামের আরেক শাসনকর্তা নবাব ইয়াসিন খাঁ আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদের সন্নিকটে পাহাড়ের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের একটি টিলার ওপর আরেকটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন। যার নাম রাখেন ‘কদম রসুল’। কদম রসুল এই মসজিদ অনেক জনপ্রিয়তা পায়,এই মসজিদে জনপ্রিয়তা কারণে আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদটি মুসল্লি ও গুরুত্ব হারাতে থাকে।

আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ
আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ

এই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদটিকে তাদের গোলাবারুদ রাখার গুদাম হিসেবে ব্যবহার শুরু করে। পরবর্তীতে হামিদুল্লাহ খাঁ আবেদনের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদটি আবারও উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।দীর্ঘ ১১৫ বছর পর এই মসজিদ টি উন্মুক্ত হয় এবং জনপ্রিয়তা পেতে থাকে ধীরে ধীরে।এই মসজিদ কে আরও ঐতিহাসিক হওয়ার কারণ পবিত্র মদিনা থেকে মসজিদের ইমাম নিযুক্ত করা হয় এটি মসজিদ প্রতিষ্ঠাকাল থেকে হয়ে আসছে।

আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ নির্মাণ?

এই মসজিদ টি অনেকে পুরোনো স্থাপত্য ও গঠন মোঘল রীতি অনুযায়ী তৈরি। সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৩০ ফুট উপরে ছোট্ট পাহাড়ের ওপর মসজিদটির অবস্থান। ১৬৬৬ সালে নির্মিত অষ্টভূজাকৃতির আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ।

নকশা অনুযায়ী মূল মসজিদটি ১৮ গজ (১৬ মিটার) লম্বা, ৭.৫ গজ (৬.৯ মিটার) চওড়া এবং প্রতিটি দেয়াল প্রায় ২.৫ গজ (২.২ মিটার) পুরু। পশ্চিমের দেয়ালটি পোড়া মাটির তৈরি এবং বাকি তিনটি দেয়াল পাথরের তৈরি। মসজিদের ছাদ মধ্যস্থলে একটি বড় গম্বুজ এবং দুটি ছোট গম্বুজ দ্বারা আবৃত।

মসজিদটির পূর্বে তিনটি, উত্তর এবং দক্ষিণে একটি করে মোট ৫টি প্রবেশদ্বার রয়েছে। মসজিদের ভেতরে তিনটি মেহরাব রয়েছে। তবে মাঝের সবচেয়ে বড় মেহরাবটিই এখন ব্যবহৃত হয়।

এই ব্লগ পোস্ট কিছু তথ্য উইকিপিডিয়া থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।আপনার যারা এই ঐতিহাসিক মোঘল আমলের তৈরি মসজিদ ভ্রমণ করবেন অবশ্যই তারা কমেন্টে করে জানাবেন আপনাদের অনুভূতি।

এই ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণ করলে আপনারা মোঘল আমল সম্পর্কে কিছু টা জানতে পারবেন, আমরা বই পুস্তকে মোঘল সম্রাট কথা জেনেছি, বাস্তবে তাদের তৈরি আন্দরকিল্লা দেখলে অনেক কিছু জানতে পারবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top